কাজ কীভাবে হয়
প্রথম কথা থেকে ডেলিভারি, তারপর সাপোর্ট। পুরো প্রক্রিয়াটা ধাপে ধাপে, আগে থেকেই পরিষ্কার।
কাজ শুরু হয় একটা কথা দিয়ে, আর শেষ হয় এমন কিছুতে যেটা পুরোপুরি আপনার নিজের। মাঝখানে কোন ধাপে কী হয়, কখন আপনার কাছ থেকে কী লাগবে, সেটা শুরুর আগেই জেনে রাখা ভালো। এই পাতাটা ঠিক সে জন্যই।
প্রথম কথা
সাধারণত একটা কল দিয়েই শুরু। ব্যবসাটা কী, এখন কোথায় আটকে আছে, আর কয়েক মাস পরে কোথায় দেখতে চান, মূলত এই তিনটা জিনিস বোঝা দরকার।
কল করতে অসুবিধা হলে হোয়াটসঅ্যাপে লিখেও হয়। যেভাবে আপনার সুবিধা, সেভাবেই।
কী হবে, কী হবে না
কথা শেষে কাজের পরিধিটা লিখে দিই। কী কী হবে, কী হবে না, আর দাম কত। ওই লেখাটাই পরে দুজনের হাতের কাগজ, তাই মুখের কথার উপর কিছু ঝুলে থাকে না।
টাকার হিসাব
এককালীন কাজে সাধারণ নিয়ম অর্ধেক অগ্রিম, বাকি অর্ধেক ডেলিভারির সময়। একবারে দেওয়া কঠিন হলে কিস্তিতেও হয়, আলোচনা করে ঠিক করে নিই।
মাসিক সার্ভিস, যেমন অ্যাড ম্যানেজমেন্ট, এআই সেলস মেশিনের মাসিক চার্জ বা সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ, এগুলোর টাকা প্রতি মাসের শুরুতে, আগাম। অ্যাড ম্যানেজমেন্টে বিশেষ ক্ষেত্রে আলোচনা করে দুই ধাপে দেওয়া যায়।
বিজ্ঞাপনের খরচ, সার্ভারের ভাড়া, ডোমেইনের দাম, এগুলো ফি এর বাইরের প্রকৃত খরচ। যতটা সম্ভব সেগুলো আপনার নিজের অ্যাকাউন্ট থেকেই যাবে, তাতে প্রতিটা টাকা কোথায় গেল সেটা আপনার চোখের সামনেই থাকে।
অ্যাক্সেস
বিজ্ঞাপন চালাতে বাংলাদেশে সাধারণত পেজের অ্যাক্সেসটুকুই যথেষ্ট। Business Manager বা Ad Manager আপনার নিজের নামে থাকলে সবচেয়ে ভালো, কারণ তখন পিক্সেল, অডিয়েন্স আর বিজ্ঞাপনের পুরো ইতিহাস আপনার হাতেই থেকে যায়। কাজ শেষে অ্যাক্সেসটা ফিরিয়ে নিলেই হলো, কিছু হারায় না।
কার নামে কী থাকবে সেটাও আপনার সুবিধা দেখেই ঠিক হয়।
কাজ চলাকালে
প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপে আপডেট যায়। আজ কী হলো, কাল কী হবে, আর কোথাও আটকে গেলে সেটাও। সপ্তাহ শেষের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।
আপনার কাছ থেকে ছবি, লেখা বা অনুমোদন যা লাগবে, সেটা যতটা পারি একসাথে চেয়ে নিই, বারবার বিরক্ত করি না।
ডেলিভারি
কাজ শেষ হলে সব কিছু আপনার অ্যাকাউন্টে, আপনার নামে। লগইন, ফাইল, অ্যাক্সেস, যা যা আছে সব বুঝিয়ে দিই। কীভাবে চালাবেন সেটাও দেখিয়ে দিই, যাতে ছোট একটা জিনিসের জন্য আপনাকে বসে থাকতে না হয়।
তারপরের এক মাস
এককালীন কাজে ডেলিভারির পর এক মাস সাপোর্ট ধরাই থাকে, আলাদা টাকা লাগে না। মাসিক সার্ভিসে সাপোর্ট এমনিতেই মাসিক চার্জের ভেতরে। কিছু ভাঙলে ঠিক করে দিই, প্রশ্ন থাকলে উত্তর পাবেন।
এক মাস পরেও যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় না। ছোটখাটো জিনিস এমনিতেই হয়ে যায়। কাজটা বড় হলে বা নিয়মিত সময় দিতে হলে তখন একটা সার্ভিস চার্জ লাগে, সেটা আগেই বলে নিই।
কোথায় গিয়ে সময় নষ্ট হয়
কাজ পিছিয়ে যাওয়ার কারণ সাধারণত দুটোই। এক, আপনার কাছ থেকে তথ্য বা অনুমোদন পেতে দেরি। দুই, মাঝপথে পরিধির বাইরে নতুন কিছু যোগ হওয়া।
প্রথমটা এড়াতে যা যা লাগবে শুরুতেই একসাথে চেয়ে নিই। দ্বিতীয়টা হলে সময় আর দাম দুটোই নতুন করে জানাই, চুপচাপ ধরে নিই না।
কোনো প্রশ্ন আছে?
হোয়াটসঅ্যাপে জিজ্ঞেস করুন, সোজা উত্তর দেব। লিখে পাঠাতে চাইলে সেটাও পারেন।