১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ChatGPT কে জিজ্ঞেস করলে আপনার দোকানের নাম আসে কিনা
মানুষ এখন গুগলের পাশাপাশি এআইকেও জিজ্ঞেস করে কোথা থেকে কিনবে। ওই উত্তরে আপনার নাম আছে কিনা সেটা দশ মিনিটেই দেখে নেওয়া যায়।
আগে মানুষ গুগলে লিখত "ঢাকায় ভালো খাঁটি মধু কোথায় পাওয়া যায়", তারপর দশটা লিংক থেকে বেছে নিত। এখন অনেকে সেই একই প্রশ্ন ChatGPT বা Gemini কে করে, আর একটাই উত্তর পায়। দশটা লিংকের জায়গায় দুই তিনটা নাম।
ওই দুই তিনটা নামের মধ্যে আপনি আছেন কিনা, সেটাই এখনকার আসল প্রশ্ন।
আগে দেখে নিন, দশ মিনিটের কাজ
ChatGPT, Gemini আর Perplexity, তিনটাতেই আপনার ক্রেতা যেভাবে জিজ্ঞেস করত সেভাবে প্রশ্ন করুন। নিজের নাম দিয়ে নয়, সমস্যার নাম দিয়ে।
- ঢাকায় আপনার পণ্যের নাম বসিয়ে, কোথা থেকে কিনলে আসল পাব
- আপনার সেবার নাম বসিয়ে, বাংলাদেশে ভালো প্রতিষ্ঠান কোনগুলো
- আপনার ব্র্যান্ডের নাম বসিয়ে, এই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কী জানো
প্রথম দুটোতে নাম না আসা স্বাভাবিক, বেশিরভাগ ব্যবসারই আসে না। কিন্তু তৃতীয়টায় যদি উত্তর হয় "এই নামে কিছু জানা নেই", তাহলে বুঝবেন এআই ইঞ্জিনের কাছে আপনার ব্যবসাটা কার্যত নেই।
এআই উত্তরটা বানায় কোথা থেকে
জাদু নয়। ইঞ্জিনগুলো ওয়েবপেজ পড়ে, আর পড়ে সাধারণ HTML. ছবি থেকে পড়ে না, ভিডিও থেকে পড়ে না, আর লগইনের পেছনে থাকা কিছু পড়তে পারে না।
এখানেই বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যবসা আটকে যায়। যাদের পুরো উপস্থিতি শুধু একটা ফেসবুক পেজ, তাদের বেশিরভাগ কনটেন্ট এআইয়ের নাগালের বাইরে। পেজে দশ হাজার ফলোয়ার থাকতে পারে, তবু কোনো এআই আপনার নাম বলবে না, কারণ পড়ার মতো কিছু সে পায়নি।
সাইট থাকলেও থাকতে পারে, আবার নাও থাকতে পারে
একটা ওয়েবসাইট থাকা যথেষ্ট নয়। সাইটটা JavaScript ছাড়া কী দেখায় সেটাই আসল কথা।
আজকাল অনেক সাইট এমনভাবে বানানো হয় যে ব্রাউজারে জাভাস্ক্রিপ্ট চলার পর লেখাগুলো বসে। মানুষের ব্রাউজারে সেটা কাজ করে। কিন্তু বেশিরভাগ এআই ক্রলার জাভাস্ক্রিপ্ট চালায় না, তারা পায় একটা ফাঁকা পাতা।
নিজেরটা পরীক্ষা করা সহজ। ব্রাউজারে সাইট খুলে ডান ক্লিক করে View Page Source দেখুন। সেখানে আপনার লেখাগুলো যদি চোখে পড়ে, তাহলে ঠিক আছে। আর যদি শুধু কোড আর স্ক্রিপ্টের লিংক দেখেন, লেখা কোথাও নেই, তাহলে এআই ইঞ্জিনও ঠিক ওটাই দেখছে।
উত্তরটা প্রথম অনুচ্ছেদেই দিন
এআই যেভাবে কাজ করে, সে পাতা থেকে সরাসরি উত্তর খোঁজে। যে পাতায় তিন প্যারাগ্রাফ ভূমিকার পর আসল কথা শুরু হয়, সেখান থেকে উদ্ধৃতি তোলা কঠিন।
তাই প্রতিটা পাতায় প্রশ্নটা আগে, উত্তরটা সাথে সাথে। দাম কত, কত দিন লাগে, কী কী থাকে, এগুলো স্পষ্ট করে লেখা থাকলে এআই সেটাই তুলে নেয়। লুকিয়ে রাখলে সে অন্য কারও পাতা থেকে তুলবে।
আপনার তথ্য সব জায়গায় এক রাখুন
নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, এই তিনটা ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ, গুগল ম্যাপ, সব জায়গায় হুবহু এক হওয়া দরকার। এক জায়গায় "মেসার্স রহিম ট্রেডার্স" আর আরেক জায়গায় "রহিম ট্রেডার্স" লেখা থাকলে ইঞ্জিন নিশ্চিত হতে পারে না দুটো একই প্রতিষ্ঠান কিনা, আর অনিশ্চিত তথ্য সে উত্তরে ব্যবহার করে না।
গুগল বিজনেস প্রোফাইল খুলে রাখাটাও এখানে কাজে দেয়। ওটা এআই ইঞ্জিনের জন্য একটা বাড়তি নিশ্চয়তা।
যা কাজ করে না
একই শব্দ বারবার লেখা, যেটাকে অনেকে এসইও ভাবেন, সেটা এখন উল্টো ক্ষতি করে।
PDF এ সব লিখে সাইটে ঝুলিয়ে রাখাও কাজে আসে না, বেশিরভাগ ক্রলার PDF ভালোভাবে পড়ে না।
আর সবচেয়ে বড় ভুলটা হলো লেখা না থাকা। যে সাইটে শুধু ছবি আর তিন লাইন, সেখান থেকে এআই উদ্ধৃত করার মতো কিছুই পায় না।
ছোট করে
এআই ইঞ্জিনে দেখা যাওয়ার কোনো গোপন কৌশল নেই। সাইটে সাধারণ HTML এ পড়ার মতো লেখা থাকতে হবে, প্রশ্নের উত্তর সোজাসুজি থাকতে হবে, আর তথ্য সব জায়গায় এক থাকতে হবে।
আজ যা করবেন সেটার ফল আজ পাবেন না। কিন্তু যেদিন আপনার ক্রেতা এআইকে জিজ্ঞেস করবে কোথা থেকে কিনবে, সেদিন নামটা থাকবে কি থাকবে না, সেটা আজকের কাজেই ঠিক হচ্ছে।
আপনার ব্যবসার হিসাব মিলছে তো
পড়ে ভালো লাগলে এক কাজ করুন, নিজের অবস্থাটা একবার বলুন। কোথায় টাকা নষ্ট হচ্ছে সেটা বের করতে সাধারণত একটা কথাই যথেষ্ট।