১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভালো এজেন্সি চেনার সাতটা লক্ষণ
বিজ্ঞাপনের টাকা কার হাতে দিচ্ছেন সেটা বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় সাতটা প্রশ্ন। উত্তরগুলো শুনলেই বাকিটা পরিষ্কার হয়ে যায়।
বাংলাদেশে একটা এজেন্সি বাছাই করতে গিয়ে বেশিরভাগ ব্যবসার মালিক দুটো জিনিস দেখেন, দাম আর ফেসবুকের পোস্ট। দুটোই সবচেয়ে কম নির্ভরযোগ্য দুটো সূচক। কম দামে ভালো কাজও হয়, আবার বেশি দামে খারাপ কাজও হয়। আর যে এজেন্সি নিজের পেজে সবচেয়ে সুন্দর গ্রাফিক্স বানায়, আপনার বিজ্ঞাপনে সে ভালো করবে এমন কোনো নিয়ম নেই।
কাজে নামার আগে সাতটা প্রশ্ন করলে যা বোঝার বেশিরভাগটাই বোঝা হয়ে যায়। প্রশ্নগুলো কঠিন নয়, আর উত্তরে কে আটকে যাচ্ছে সেটাই আসল তথ্য।
১. অ্যাকাউন্ট কার নামে থাকবে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আর সবচেয়ে কম জিজ্ঞেস করা হয়।
উত্তর হওয়া উচিত, আপনার নামে। আপনার Business Portfolio, আপনার বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্ট, আপনার পিক্সেল, আপনার কার্ড থেকে টাকা। এজেন্সি সেখানে পার্টনার হিসেবে ঢুকবে, আর কাজ শেষে বেরিয়ে যাবে।
উত্তর যদি হয় "আমাদের অ্যাকাউন্টেই চলবে, আপনাকে চিন্তা করতে হবে না", তাহলে যেদিন সম্পর্ক শেষ হবে সেদিন আপনি শূন্য হাতে দাঁড়াবেন। বিজ্ঞাপনের ইতিহাস, জমা হওয়া অডিয়েন্স, পিক্সেলের শেখা ডেটা, কিছুই সাথে আসবে না। নতুন এজেন্সিকে আবার প্রথম থেকে শুরু করতে হবে, আর শেখার ওই সময়টার টাকাও আবার আপনারই।
কীভাবে দিলে মালিকানা আপনার থাকে সেটা আমরা অ্যাক্সেস গাইডে ধাপে ধাপে লিখে রেখেছি।
২. কনভার্শন কীভাবে মাপা হবে
"লাইক কমেন্ট বাড়বে" শুনলে সতর্ক হন। লাইক দিয়ে দোকান চলে না।
ভালো উত্তরে নির্দিষ্ট শব্দ থাকে। পিক্সেল বসানো হবে, কোন কোন ঘটনা মাপা হবে, অর্ডার এলে সেটা কীভাবে ফেসবুকে ফেরত যাবে, আর একই অর্ডার দুবার গোনা হচ্ছে কিনা সেটা কীভাবে ঠেকানো হবে।
যিনি এই প্রশ্নে অস্বস্তি বোধ করেন, তিনি বিজ্ঞাপন চালাতে পারেন, কিন্তু আপনার টাকার হিসাব রাখতে পারবেন না।
৩. প্রথম মাসে কী আশা করা যায়
সৎ উত্তর সবসময় সংযত হয়। প্রথম কয়েকটা সপ্তাহে তথ্য জমে, তারপর বিজ্ঞাপন শিখতে শুরু করে। এই সময়ে খরচের তুলনায় ফেরত কম থাকাটাই স্বাভাবিক।
কেউ যদি প্রথম সপ্তাহেই নির্দিষ্ট সংখ্যার প্রতিশ্রুতি দেন, তার মানে হয় তিনি জানেন না, নয় জেনেও বলছেন। দুটোর কোনোটাই আপনার পক্ষে যায় না।
৪. রিপোর্টে কী থাকবে
স্ক্রিনশট রিপোর্ট নয়। রিপোর্ট মানে খরচ কত হলো, কতগুলো অর্ডার বা লিড এলো, প্রতিটার পেছনে কত পড়ল, আর গত সপ্তাহের তুলনায় সেটা কোন দিকে গেল।
আর একটা জিনিস দেখবেন, খারাপ সপ্তাহের কথা রিপোর্টে আসে কিনা। যে এজেন্সি শুধু ভালো সংখ্যাগুলো দেখায়, সে খারাপগুলো লুকাচ্ছে না, বরং সেগুলো দেখছেই না।
৫. কে আসলে কাজটা করবে
বিক্রি করতে আসেন একজন, কাজ করেন আরেকজন, আর প্রশ্নের উত্তর দেন তৃতীয় কেউ। এই জায়গাতেই বেশিরভাগ ভোগান্তি শুরু হয়।
জিজ্ঞেস করুন কাজটা আসলে কার হাতে থাকবে, আর সমস্যা হলে কাকে ধরবেন। নামটা যদি আপনি পান, ভালো লক্ষণ। আর যদি উত্তরটা হয় "আমাদের টিম", তাহলে আরেকটু খুঁড়ে দেখুন।
৬. আগের কাজ দেখতে চাইলে কী দেখান
সুন্দর ডিজাইনের ছবি নয়, আসল অ্যাকাউন্টের সংখ্যা। ক্লায়েন্টের অনুমতি থাকলে স্ক্রিনশট, না থাকলে অন্তত কী সমস্যা ছিল আর কী করা হয়েছিল তার বিস্তারিত।
আর দেখুন তাঁরা কোন কাজটা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন সেটা বলতে পারেন কিনা। যিনি নয় বছরে কখনো কিছু ভুল করেননি, তিনি হয় কাজ করেননি, নয় মনে রাখেননি।
৭. কাজ শেষ হলে কী হবে
শুরুর কথা সবাই বলে, শেষের কথা কেউ বলে না।
জিজ্ঞেস করুন হস্তান্তরের সময় কী কী বুঝিয়ে দেওয়া হবে, সাপোর্ট কত দিন থাকবে, আর তারপর কী শর্তে। আমাদের নিজেদের নিয়মটা কাজ কীভাবে হয় পাতায় লেখা আছে, যাতে জিজ্ঞেস করার আগেই আপনি জেনে নিতে পারেন।
ছোট করে
সাতটা প্রশ্নের মধ্যে প্রথমটাই সবচেয়ে দামি। মালিকানা আপনার হাতে থাকলে খারাপ এজেন্সি বদলানো একটা বিরক্তি মাত্র। মালিকানা অন্যের হাতে থাকলে সেটা ক্ষতি, আর সেই ক্ষতি টাকায় মাপা যায়।
বাকি ছয়টা আপনাকে বলে দেবে কাজটা কার হাতে দিচ্ছেন। প্রশ্নগুলো করতে লজ্জা পাবেন না, ভালো এজেন্সি এই প্রশ্নগুলো শুনে খুশিই হয়, কারণ তাদের উত্তর তৈরি থাকে।
আপনার ব্যবসার হিসাব মিলছে তো
পড়ে ভালো লাগলে এক কাজ করুন, নিজের অবস্থাটা একবার বলুন। কোথায় টাকা নষ্ট হচ্ছে সেটা বের করতে সাধারণত একটা কথাই যথেষ্ট।